সাকিব আল হাসান

ক্যারিয়ারে অধিকাংশ সময় পাঁচ নম্বরে ব্যাটিং করেছেন টাইগার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তবে সদ্য শেষ হওয়া দ্বাদশ বিশ্বকাপে তিন নম্বরে ব্যাটিং করেছেন তিনি। আর সেটা সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছেতেই। তিন নম্বর পজিশনে ব্যাটিং করে সাকিব পেয়েছেন ঈর্ষনীয় সফলতা। ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস বিশ্বকাপের ৮টি ম্যাচে ফার্স্ট ডাউনে ব্যাটিং করে ৬০৬ রান করেছেন এই বাঁ-হাতি অলরাউন্ডার।

চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ দল। আসন্ন এই সিরিজে খেলবেন না সাকিব। বিশ্রাম নিয়েছেন তিনি। ফলে শ্রীলঙ্কা সফরে তিন নম্বর পজিশনে সাকিবের জায়গায় কাকে ব্যাটিং করতে দেখা যাবে তা নিয়ে টাইগার ভক্তদের মনে জেগেছে কৌতূহল। আর বাংলাদেশ দলের টিম ম্যানেজমেন্টও পড়েছে চিন্তায়।

লিটন দাশ স্কোয়াডে থাকলে হয়তো তাকেই দেখা যেত তিন নম্বর পজিশনে। তবে বিয়ের কারণে শ্রীলঙ্কা সফরে খেলছেন না তিনি। সেক্ষেত্রে স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের মধ্যে সাব্বির রহমানকেই তিন নম্বর পজিশনে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আবার এনামুল হক বিজয়, মোহাম্মদ মিঠুন কিংবা সৌম্য সরকারের মধ্যে যেকোনো একজনকে সাকিবের জায়গায় ব্যাটিং করতে দেখলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই।

তিন নম্বর পজিশন নিয়ে বাংলাদেশ দলের সমস্যাটা দীর্ঘদিনের। টাইগার টিম ম্যানেজমেন্টের সবসময়কার ভাবনার কারণ এটি। তবে সেই ভাবনা দূর করেছেন সাকিব। দ্বাদশ বিশ্বকাপে তিন নম্বরে ব্যাটিং করে ৮ ম্যাচের সবকটিতেই রান পেয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। এরমধ্যে করেছেন ৭টি হাফসেঞ্চুরি ও ২টি সেঞ্চুরি। ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে সাকিবের রান পাওয়া।

সাকিব তার ক্যারিয়ারে বেশিরভাগ সময় ব্যাটিং করেছেন পাঁচ নম্বরে। ১২৫টি ম্যাচে পাঁচ নম্বর পজিশনে ব্যাটিং করে ৩৮৫২ রান করেছেন তিনি। গড় ৩৫.৩৫। এরমধ্যে সেঞ্চুরি আছে ৫টি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩০টি ম্যাচে ব্যাটিং করেছেন চার নম্বর পজিশনে। যেখানে ৪ সেঞ্চুরিতে করেছেন ৯৫৯ রান। গড় ৪১.৭০। পরিসংখ্যান বলছে সাকিব সবচেয়ে সফল তিন নম্বর পজিশনেই। ফার্স্ট ডাউনে ২৩ ম্যাচে ২ সেঞ্চুরিতে ৫৮.৮৫ গড়ে ১১৭৭ রান করেছেন তিনি। যার মধ্য ৬০৬ রানই এসেছে দ্বাদশ বিশ্বকাপে। এবারের বিশ্বকাপের পর সাকিব যে তিন নম্বর পজিশনে বাংলাদেশ দলের অটোচয়েজে পরিণত হয়েছেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

সাকিবের অনুপস্থিতিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন নম্বর পজিশনে ব্যাটিং করতে দেখা যেতে পারে সাব্বির রহমানকে। একটা সময় ফার্স্ট ডাউনেই ব্যাট করতেন তিনি। তিন নম্বর পজিশনে ১৬ ম্যাচে ২৩.৫০ গড়ে ৩৭৬ রান করেছেন সাব্বির।

শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য ঘোষিত বাংলাদেশ দলে ওপেনিং করতে পারেন এমন ব্যাটসম্যান আছেন তিনজন। তারা হলেন- তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার ও এনামুল হক বিজয়। এদের মধ্যে যেকোন একজনকে দেখা যেতে পারে তিন নম্বরে।

তামিম ওপেনিংয়ে টাইগারদের অটোচয়েজ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও দলের হয়ে ইনিংস ওপেন করবেন তিনি। এতে কোনো সন্দেহ নেই। এ ছাড়া তামিম ক্যারিয়ারে কখনোই তিন নম্বর পজিশনে ব্যাটিং করেননি। তামিমের মতো ক্যারিয়ারে কখনোই তিন নম্বর পজিশনে ব্যাট করেননি এনামুল হকও। সেক্ষেত্রে সৌম্য সরকারকে দেখা যেতে পারে ফার্স্ট ডাউনে।

সৌম্য ১২টি ম্যাচে তিন নম্বর পজিশনে ব্যাটিং করেছেন। যেখানে ১ সেঞ্চুরি ও ২ হাফসেঞ্চুরিতে ৪৪৩ রান করেছেন তিনি। গড় ৩৬.৯২। মজার ব্যাপার হলো, ওপেনিংয়ের চেয়ে তিন নম্বর পজিশনেই সৌম্যর ব্যাটিং গড় বেশি। দলের হয়ে ৩৫টি ম্যাচে ইনিংস ওপেন করে ১ সেঞ্চুরি ও ৮ হাফসেঞ্চুরিতে ১১২৯ রান করেছেন মারকুটে এই ব্যাটসম্যান। গড় ৩৫.২৮।

স্কোয়াডে থাকা মোহাম্মদ মিঠুনেরও তিন নম্বরে ব্যাটিং করার অভিজ্ঞতা আছে। ক্যারিয়ারে ২টি ম্যাচে তিন নম্বরে ব্যাট করেছেন তিনি। তবে একবারও আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি। ২ ম্যাচে করেছেন ২৭ রান।

তামিম ও এনামুল আগে কখনো তিন নম্বর পজিশনে ব্যাটিং করেননি। সে হিসেবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজে সাব্বির কিংবা সৌম্যর মধ্যে যেকোনো একজনকেই ফার্স্ট ডাউনে ব্যাটিং করতে দেখা যেতে পারে।

এক নজরে সাকিবের অনুপস্থিতিতে শ্রীলঙ্কা সফরে তিন নম্বর পজিশনে ব্যাটিং করতে দেখা যেতে পারে এমন ক্রিকেটারদের অতীত পরিসংখ্যান কি বলছে দেখা যাকঃ

তামিম ইকবাল– ক্যারিয়ারে কখনোই তিন নম্বরে ব্যাট করেননি।

সৌম্য সরকার– ১২টি ম্যাচে তিন নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে ১ সেঞ্চুরি ও ২ হাফসেঞ্চুরিতে ৪৪৩ রান করেছেন, গড় ৩৬.৯২।

এনামুল হক বিজয়– ক্যারিয়ারে কখনোই তিন নম্বরে ব্যাট করেননি।

সাব্বির রহমান– তিন নম্বর পজিশনে ১৬ ম্যাচে ২৩.৫০ গড়ে ৩৭৬ রান করেছেন।

মোহাম্মদ মিঠুন– ২ ম্যাচে তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে করেছেন ২৭ রান।

-এসএমসা/

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here