ফাইল ছবি

চলতি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি। তবে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেমির দৌড়ে ফিরে আসে তারা। আর সর্বশেষ দারুণ ফর্মে থাকা নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে দারুণ কিছুরই ইঙ্গিত দিচ্ছে পাকিস্তান।

মজার বিষয় হলো, ১৯৯২ সালে সাতটি ম্যাচের পর পাকিস্তানের অবস্থা যা ছিল এবারও ঠিক একই অবস্থা। ২৭ বছর আগের বিশ্বকাপে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপ জিতে নিয়েছিল পাকিস্তান। এবার কী পারবে তারা, নাকি বাংলাদেশের সঙ্গেই তাদের স্বপ্নভঙ্গ হবে? প্রশ্নের উত্তরটা হয়তো সময়ই বলে দেবে।

পাকিস্তানের জন্য ১৯৯২ বিশ্বকাপ আর চলতি বিশ্বকাপ যেন একই সুতোয় গাঁথা। এখন পর্যন্ত ম্যাচের হিসাবে হুবহু মিলে গেছে দুই আসরের ফলাফল। ১৯৯২ আর চলতি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ম্যাচ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৯৯২ সালে হার দিয়ে শুরু করে পাকিস্তান। এবারের বিশ্বকাপেও সেটাই হয়েছে।

ওই টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় ম্যাচটি জেতার পর তৃতীয়টিতে বৃষ্টির কারণে কোনও ফলাফল আসেনি। এরপর চতুর্থ ও পঞ্চম ম্যাচটি হারার পর ষষ্ঠ ও সপ্তম ম্যাচটি জিতে যায় পাকিস্তান। এবারের বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সূচি মিলিয়ে দেখুন, এবারও হুবহু সেটাই হয়েছে।

শুধু ম্যাচ কিংবা ফলাফলের দিক থেকে নয়, পাকিস্তানের ক্ষেত্রে খুঁটিনাটি আরও কিছু বিষয়ে মিল পাওয়া যাবে ১৯৯২ আর চলতি বিশ্বকাপের মধ্যে। ৯২ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড অপরাজিত ছিল। শেষে পাকিস্তানের সঙ্গে এসে হারতে হয় তাদের। এবারও টুর্নামেন্টে আগের সবকটি ম্যাচ জিতলেও পাকিস্তানের সঙ্গে হেরে যায় তারা।

১৯৯২ বিশ্বকাপে পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ড ম্যাচটি হয়েছিল বুধবারে। এই আসরেও বুধবারেই হয়েছে। ওই বিশ্বকাপে রমিজ রাজা অপরাজিত শতরান (১১৯ রান) করে দলকে জিতিয়েছিলেন। আর এবার অপরাজিত শতরান (১০১ রান) করে দলকে জেতালেন বাবর আজম। অর্থাৎ তখনও একটি সেঞ্চুরি ছিল, সেঞ্চুরি আছে এবারও।

সব মিলিয়ে ১৯৯২ আসরের সঙ্গে চলতি আসরের অনেক কিছুই মিলে গেছে পাকিস্তানের। তাহলে কী তখনকার মতো এবারও চ্যাম্পিয়ন হতে যাচ্ছে তারা? সম্ভাবনাকে একেবারে উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। কারণ, হুট করেই আবার ভালো খেলতে শুরু করেছে পাক তারকারা।

তবে পাকিস্তানের স্বপ্নে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে ওয়ানডে ক্রিকেটে নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়া বাংলাদেশ। ১৯৯২ আর চলতি আসরের মধ্যে অনেক মিল থাকতে পারে। তার মধ্যে একটি অমিলও আছে। সেটা হলো- ১৯৯২ আসরে বাংলাদেশ ছিল না কিন্তু এবার আছে এবং ভালোভাবেই আছে। ফলে পাকিস্তানের সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে যেতে পারে এখানে এসেই।

বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান বর্তমানে পয়েন্ট টেবিলে যে অবস্থানে আছে তাতে সেমিফাইনালে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচটিই হতে পারে দুদলের জন্য ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচ। সেক্ষেত্রে যে দল জিতবে সেই যাবে সেমিফাইনালে।

বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় অবশ্য বাংলাদেশই ফেভারিট। গত ৫ বছরে পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি ম্যাচেও হারেনি টাইগাররা। সবশেষ ২০১৪ সালের এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে হারের স্বাদ পায় মাশরাফি বাহিনী। ফলে এখান থেকেও আত্মবিশ্বাস খুঁজবে সাকিব-মুশফিকরা।

অবশ্য পাকিস্তানের পেস অ্যাটাক গত দুই ম্যাচে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ব্যাটিংয়েও ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে টপ-মিডল অর্ডাররা। এদিকে বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই। দুর্দান্ত ফর্মে আছেন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা অস্ত্র বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। রান আছে মুশফিক, মোসাদ্দেকের ব্যাটেও। অন্যরাও যে খারাপ করছেন তা নয়। ফিল্ডিংও বলা যায় সন্তোষজনক। শুধু পাকিস্তানের বিপক্ষে বোলিংটা ভালো করতে পারলেই হয়তো সরফরাজদের স্বপ্নভঙ্গের কারণ হবে বাংলাদেশ। টাইগার ভক্তরাও নিশ্চয়ই সেটাই চান।

এইচএম/

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here