“সপাটে হাওয়ায় ভাসিয়ে খেলেছেন, বল চলে যাচ্ছে সীমানার দিকে, এক বাউন্স, দুই বাউন্স এবং লক্ষ্যভেদ। ‘হোল ইন ওয়ান’ শটে জয় ছিনিয়ে নিল বাংলাদেশ।” কি!! ভাবছেন ‘হোল ইন ওয়ান’ আবার কি? ক্রিকেট নয় কথা বলছি গলফ নিয়ে। সেদিন হয়ত বেশি দূরে নয় যখন গলফেও এমন ধারাভাষ্য হবে। থাকবে অনুশীলন করার জন্য গলফ ট্রেনিং ক্লাব। সাকিব, তামিম, মুশফিকদের ভিড়ে অন্য কোন খেলা নিয়ে বা খেলোয়াড় নিয়ে বাংলাদেশিদের উচ্ছ্বাস নেই বললেই চলে। প্রথমে বাংলাদেশে ফুটবল ও দাবা ছাড়া অন্য খেলার অস্তিত্ব ছিল না৷ তার পরে এখন ক্রিকেট জনপ্রিয়তায় হারিয়ে দিয়েছে সবাইকে ৷ অন্য খেলার অস্তিত্ব শোনাই যায় না ৷ অথচ দেশের সম্মান অথবা অর্থ কোনোদিক দিয়েই এই খেলা গুলো পিছিয়ে নেই। ইউরোপের জনপ্রিয় একটি খেলা গলফ। বাংলাদেশ থেকে এই খেলা কে প্রতিনিধিত্ব করেন যে গুটিকয়েক খেলোয়াড় তাদের মধ্যে সিদ্দিকুর রহমান অন্যতম। আজ আমরা তাকে নিয়েই কিছু আলোকপাত করব। 

সিদ্দিকুরের গলফ যাত্রা শুরু কুর্মিটোলা গলফ কোর্সের ‘বল বয়’ হিসেবে। নিজের পড়ালেখার খরচ এর ব্যবস্থা করতে বল বয় হিসেবে কাজ শুরু করেন। বর্তমানে তিনি কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবের একজন সম্মানী সদস্য। আমরা যখন বাংলাদেশের গল্ফ সম্পর্কে চিন্তা করি তখন কেবল একটি নাম উচ্চারণ হয় এবং তা হল মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান। 

১৯৮৮ সালের ২০ নভেম্বর বাংলাদেশের মাদারীপুরে জন্মগ্রহণ করেন এবং বর্তমানে রাজধানী ঢাকায় বসবাসরত মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান এশিয়ান পিজিএ (PGA= Professional Golfers’ Association) ট্যুরে অংশ নেওয়া পেশাদার গল্ফার। জুলাই ২০১১ মালয়েশিয়ায় খেলা, তিন দিনের শেষ দিকে লিডে থাকা মালয়েশিয়ার এয়ারিল রিজমানকে পেছনে ফেলে খেলার চতুর্থ দিন শুরু করে সিদ্দিকুর । নেগেরি সেমিলান মাস্টার্স ইনভাইটেশনালটি সিদ্দিকুর রহমান খেলার চূড়ান্ত গর্তের উপর ঈগল (fewer strokes than expected.) শট চালানোর সময় জিতেছিলেন। চ্যাম্পিয়নশিপ গেম জয়ের সন্তুষ্টি ছাড়াও সিদ্দিকুর মালয়সিয়ান রিঙ্গিত ৭৮,৭৫০ সমপরিমাণ পুরস্কারের টাকা নিয়ে যায়।

২০০৯ সালের একটি সাক্ষাত্কারে সিদ্দিকুর প্রকাশ করেছিলেন যে, পড়াশোনার জন্য অর্থ ব্যয়ের প্রয়াসে তিনি স্বদেশের বাংলাদেশের কুর্মিটোলা গল্ফ ক্লাবে বল-বয় হিসাবে কাজ করছেন। তিনি খেলায় আগ্রহী হয়ে উঠতে শুরু করেছিলেন এবং বুঝতে পেরেছিলেন যে প্রতিযোগিতামূলকভাবে তার খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন ক্লাবে বল বয় হওয়ার পরিবর্তে তিনি একজন সম্মানিত সদস্য। সিদ্দিকুর বলেছিলেন যে তিনি এশিয়ান ট্যুরে খেলার চ্যালেঞ্জ উপভোগ করেন, যার অত্যন্ত চূড়ান্ত কোয়ালিফাইং স্কুল রয়েছে। তিনি আরও প্রকাশ করেছিলেন যে তাঁর চূড়ান্ত লক্ষ্যটি ইউএস পিজিএ ট্যুরে প্রতিযোগিতা করা – এবং তার প্রতিভা এবং প্রচুর পরিশ্রমের সাথে, এই লক্ষ্যটি খুব সম্ভবত বাস্তবতায় পরিণত হতে পারে।

সিঙ্গাপুরে এশিয়ান ট্যুরটি পুরুষদের জন্য এশিয়ার প্রধান পেশাদার গল্ফ ভ্রমণ। ১৯৯৯ সালে এশিয়ান ট্যুরের প্রথম মরসুমটি খেলা হয়েছিল এবং বিশ্ব-মানের খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রতিযোগিতা নিয়ে এটি একটি মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট হিসাবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এশিয়ান ট্যুর টুর্নামেন্টের আয়োজক দেশগুলির মধ্যে রয়েছে ব্রুনাই, কম্বোডিয়া, ভারত, হংকং, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মায়ানমার, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, তাইওয়ান এবং ফিলিপাইন। সিদ্দিকুর জিতে থাকা অন্যান্য টুর্নামেন্টের মধ্যে রয়েছে ২০১০ ব্রুনাই ওপেন; ২০১১ গ্রামীণফোন বাংলাদেশ মাস্টার্স; ২০০৮ পিজিটিআই প্লেয়ার্স চ্যাম্পিয়নশিপ; ২০০৮ হুদা-জিটিপিএল ইউনিটেক হরিয়ানা ওপেন; ২০০৯ গ্লোবাল সবুজ ব্যাঙ্গালোর ওপেন; এবং ২০১০ আমেরিকান এক্সপ্রেস বাংলাদেশ ওপেন।

গল্ফার সিদ্দিকুরের উঠে আসা রীতিমতো চমকপ্রদ ঘটনা ৷ “বাংলার টাইগার উডস” নামে খ্যাত সিদ্দিকুর রহমান এর জন্ম ১৯৮৪ সালে, মাদারীপুরে। পেশাদার গলফ খেলার যাত্রা শুরু ২০০৫ সালে, মাত্র ২১ বছর বয়সে। আর ২০১৬ সালে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অলিম্পিকে দেশকে উপস্থাপন করার যোগ্যতা অর্জন করেন। ১৪ বছরের ক্যারিয়ারে ২ টি এশিয়ান ট্যুর সহ ১২ টি ট্যুর জয় করেছেন। পেশাদার গলফ খেলা শুরুর মাত্র ৩ বছরে শুরুতে প্রথম ট্যুর জয়ের দেখা পান। এরপর ফিরে তাকাতে হয়নি। 

বর্তমানে সিদ্দিকুর পেশাদার গলফ খেলার পাশাপাশি ছোটদের গলফ ট্রেনিং সহ নানা সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজের সাথে জড়িত। ক্যারিয়ারের শুরুতে আর্থিক অর্জনের জন্যে খেললেও বর্তমানে তার লক্ষ্য শুধু দেশের নাম আর আলোকিত করা। 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here